Get Even More Visitors To Your Blog, Upgrade To A Business Listing >>

টিবি রোগের লক্ষণ

টিবি বা যক্ষ্মা এমন একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা প্রাথমিকভাবে ফুসফুসকে আক্রান্ত করে।  টিবি হচ্ছে এমন একটি রোগ যা Mycobacterium tuberculosis (Mtb) এর মাধ্যমে মানব শরীরে ছড়ায়। বর্তমানে বিশ্বে টিবি সংক্রামণে মানুষের মৃত্যুর হার দ্বিতীয় স্থানে আছে। বর্তমানে টিবি রোগের যেসব ঔষধ বাজারে আছে তাতে টিবি সংক্রামণ সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছেনা ফলে নতুন এ ঔষধ বাজারে এলে টিবি কে অনেক টা প্রতিরোধ করা যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। এখন বিশ্বে যে সকল যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে একক ভাবে কোনটাই যক্ষ্মাকে নির্মূল করতে পারেনা ফলে যক্ষ্মার এ নতুন আবিস্কারের ফলে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসাতে নতুন যুগের সূচনা ঘটল। নতুন আবিষ্কৃত ঔষধ দিয়ে Mycobacterium tuberculosis (Mtb) ১০০% নির্মূল করা যাবে বলে জানা যায়। যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা। এখন ধারণাটি অনেক বদলেছে। তবে এরপরও যক্ষ্মা হচ্ছে।  আমরা আজ এই টিপস থেকে জানবো যক্ষ্মা রোগের সঠিক কারণ, টিবি রোগের লক্ষণ, টিবি রোগের প্রকারভেদ, এবং যক্ষ্মা রোগের প্রতিরোধ বা চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে । টিবি বা যক্ষ্মা একটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ, সাধারণত সর্দি কাশি, হাঁচি ইত্যাদির মাধ্যমে রোগ বিস্তার লাভ করে। তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে অবশ্যই কফ পরীক্ষা করান, যক্ষ্মা ধরা পরলে চিকিৎসা নিন । যক্ষ্মার চিকিৎসা ফ্রি করা হয় । মনে রাখবেন যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই এই কথার ভিত্তি নাই ।

কি কি কারণে যক্ষ্মা বা টিবি রোগ হয়ে থাকে 

প্রতি বছরই সারা পৃথিবীতে লোক বাড়ছে। লোক যেমন বাড়ে তেমন সাথে সাথে রোগ ও বাড়ে। যক্ষ্মা বা টিভিও তেমনি বেড়ে যাচ্ছে। যক্ষ্মা হল দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার একটি প্রচলিত রোগ। এর মধ্যে ২২ টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ আছে যক্ষ্মা বা টিবি রোগ এর জন্য। যক্ষ্মা এমন একটি রোগ যেটা হাঁচি, কাশি, ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি পরিবার এ অনেক লোক এক সাথে বসবাস করে। যদি আমরা একজন আক্রান্ত হয় তাহলে আমার থেকে পরিবারের অন্যান্য লোকও আক্রান্ত হতে পারে। ঠিক এই জন্যই প্রতি বছর যক্ষ্মা বা টিবির নতুন নতুন লোক তৈরী হচ্ছে।

টিবি বা যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ 

মনে রাখতে হবে, কারও শরীরে যক্ষ্মার সাধারণ লক্ষণসমূহ দেখা দিলে আর বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে কারণ এই অবস্থায় যে কোন লোকেরই যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।টিবি বা যক্ষ্মা খুবই সাধারণ সংক্রামক একটি রোগ। সাধারণত বেশি দেরি হয়ে যাবার পর সনাক্ত হয় এটি। তাই এর নীরব উপসর্গের বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। আপনার যদি সুপ্ত যক্ষ্মা হয়ে থাকে তাহলে আপনার তেমন কোনো লক্ষনই প্রকাশ পাবে না এবং অন্যদের মাঝেও এটি ছড়াবে না। আর যদি আপনার সক্রিয় যক্ষ্মা বা টিবি হয়ে থাকে তাহলে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাবে আর আপনার থেকে অন্যদের মাঝেও ছড়াতে পারে এই রোগ। আপনার ফুড়ফুড়ে নাকি অন্য কোনো জায়গায় হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে উপসর্গ গুলো দেখা যায়। ফুসফুস যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে যে উপসর্গগুলো দেখা যায় সেটা হলো সক্রিয় যক্ষ্মা যেটাকে একটিভ টিবি বলা হয় সে ক্ষেত্রে এর লক্ষণ ফুসফুসের শুরু হয়ে আস্তে আস্তে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বা কয়েক মাসে এটার উন্নতি লাভ করে থাকে।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের কিছু প্রধান লক্ষণ গুলি হল-

  • সাধারনত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি জ্বর।
  • কাশির সাথে কফ এবং রক্ত আসলে।
  • বুকে ব্যথা অথবা শ্বাস নেয়ার সময় অথবা কাশির সময় ব্যথা হওয়া।
  • ওজন কমে যাওয়া।
  • শারীরিক দুর্বলতা ক্ষুধামন্দা বা খাদ্যে অরুচি অবসাদ অনুভব করা।

টিবি বা যক্ষ্মার  প্রকারভেদ 

যক্ষ্মা বা টিবি দুই প্রকার 1 ফুসফুসের যক্ষ্মা , 2 ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মা। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ হল ফুসফুসের যক্ষ্মা আর ১৫ শতাংশ অন্যান্য যক্ষ্মা। জ্বর টা সাধারণত দুপুরের পর আসে। এই জ্বর অল্প জ্বর। সাধারণত ১৫ থেকে ৪০ বয়সের লোকরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।  ফুসফুসের যক্ষ্মার সময়ে হাঁচি হবে কাশি হবে, ও অল্প জ্বর থাকবে।  ওজন কমে যাবে তার সাথে ক্ষুদামান্দ হবে। এই ক্ষেত্রে অনেক সময় কাশির সাথে রক্ত বেরোতে পারে আবার নাও পারে।

1 ফুসফুসের যক্ষ্মা – ফুসফুসের যক্ষ্মা যদি হয় সেক্ষেত্রে কাশি থাকবে, কাশির সাথে জ্বর থাকবে,
2 ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মা- মানব দেহের ভিবিন্ন জাগায় যক্ষ্মা হতে পারে যেমন,- হারে যক্ষ্মা হতে পারে, পেটে হতে পারে, ত্বকে হতে পারে, জয়েন্টেও হতে পারে। শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে।

যক্ষ্মা রোগের জীবাণু যেভাবে ছড়ায়

বাতাসের মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে রোগের জীবাণু বাতাসে মিশে যক্ষ্মা রোগের সংক্রমণ ঘটায়। যক্ষ্মা রোগীর প্লেট, গ্লাস এমনকি বিছানা আলাদা করে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি যেহেতু হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়ায়, তাই যার এ রোগ আছে তাকে কিছু ব্যপারে সতর্ক হতে হবে। যেমন- হাঁচি বা কাশির সময় মুখে রুমাল দেওয়া, হাত দিয়ে মুখ ঢাকা অথবা একদিকে সরে কাশি দিতে হবে। যেখানে সেখানে থুতু বা কফ ফেলা যাবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের কাছাকাছি গিয়ে কথা বললে এ রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে।

রোগ নির্নয়ের জন্য যে ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন 

  • রক্তের পরীক্ষা।
  • কফ পরীক্ষা।
  • ত্বকের পরীক্ষা।
  • বুকের এক্স-রে।
  • সিটি স্ক্যান।
  • কালচার টেস্ট।

কাদের যক্ষ্মা হবার সম্ভাবনা বেশি?

যাদের যক্ষ্মা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি রয়েছেঃ অপুষ্টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম। বয়স্ক ব্যক্তি যক্ষ্মায় সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি। যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করছেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধের উপায়

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে একজন সুস্থ ব্যক্তিকে নিম্মলিখিত বিষয়গুলোর ব্যপারে সাবধান হতে হবেঃ জন্মের পর পর প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দিতে হবে। পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাসস্থানের পরিবেশ খোলামেলা, আলো-বাতাস সম্পন্ন হতে হবে। জনাকীর্ণ পরিবেশে বসবাস যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। ডায়াবেটিস জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী রোগের ক্ষেত্রে, সুষ্ঠু চিকিৎসা নিতে হবে। যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীকে সবসময় নাক মুখ ঢেকে চলাচল করতে হবে। যক্ষ্মা জীবাণুযুক্ত রোগীর সাথে কথা বলার সময় একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। রোগী জীবাণুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে অন্য সবার থেকে একটু আলাদা রাখতে হবে। জীবাণুযুক্ত রোগীকে যেখানে সেখানে কফ ফেলা পরিহার করতে হবে।

যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা

যক্ষ্মা রোগ ভালো হওয়ার জন্য সাধারণত ছয় মাসের চিকিৎসা করা হয়। প্রথম দুই(২) মাস চার ধরনের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। পরবর্তী চার মাস দুই ধরনের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত যক্ষ্মার ওষুধ কিছুদিন খাওয়ার পর শতকরা ৮০ ভাগ লক্ষণ চলে যায়। তখন রোগী ভাবে সে হয়তো সম্পূর্ণ ভালো হয়ে গেছে এবং ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এর ফলাফল মারাত্মক হতে পারে। এ রকম পরিস্থিতি হলে, অন্যরকম চিকিৎসা শুরু করতে হয়। তখন ৫টা ওষুধ দিয়ে পুনরায় চিকিৎসা আরম্ভ করতে হয়।যক্ষ্মার চিকিৎসায় প্রথম দুই মাস যে চারটি ওষুধ দেওয়া হয় তা নিয়মিত খেতে হবে। একদিনও বাদ দেওয়া যাবে না এবং সঠিক পরিমাণে খেতে হবে। সাধারণত রোগীর ওজন অনুযায়ী ওষুধের পরিমাণ নির্ধারিত হয়ে থাকে।

শেষ কথা 

অবশ্যই মনে রাখবেন যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই এই কথার কোনো ভিত্তি নাই। তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে অবহেলা না করে সরাসরি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে কফ পরীক্ষা করান নাহলে বিপদ হতে পারে। সঠিক চিকিৎসায় যক্ষ্মা পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। যক্ষ্মা বা টিবি ধরা পড়লে সঠিক নিয়মে ওষুধ সেবন করুন। সব থেকে ভালো সংবাদ হল যে যক্ষ্মা বা টিবি রোগের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা হয়ে থাকে। তাই কোনো ভয়ের কিছু কারণ নেই। ওপরের উল্লেখিত ব্যাপারগুলি থেকে ভালো করে সচেতন হন। ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ। 

The post টিবি রোগের লক্ষণ appeared first on Chalo Kolkata.



This post first appeared on Chalo Kolkata, please read the originial post: here

Share the post

টিবি রোগের লক্ষণ

×

Subscribe to Chalo Kolkata

Get updates delivered right to your inbox!

Thank you for your subscription

×